ড্রপশিপিং | ই-কমার্সে নতুন ব্যবসায়িক ধারনা ৷

ড্রপশিপিং


বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যবসার নতুন ধারণা ও মডেলগুলো ক্রমাগত উদ্ভাবিত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ড্রপশিপিং – একটি এমন ব্যবসায়িক মডেল যা ই-কমার্সের জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ড্রপশিপিং ব্যবসায়ীরা সরাসরি কোনো পণ্য সংগ্রহ বা স্টক রাখেন না; বরং গ্রাহকের অর্ডার পেলে, সরাসরি তৃতীয় পক্ষের সরবরাহকারীর মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হয়। এই পদ্ধতিতে ব্যবসায়ের খরচ ও ঝুঁকি অনেক কমে যায় এবং ব্যবসায়ীরা তাদের মূল কৌশলগত ও মার্কেটিং কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারেন।- -

১. ড্রপশিপিং কি?

ড্রপশিপিং একটি অনলাইন খুচরা বিক্রয় পদ্ধতি যেখানে ব্যবসায়ী বা ই-কমার্স সাইট নিজেই পণ্য সংরক্ষণ বা গুদামে রাখেন না। যখন গ্রাহক কোনো পণ্য অর্ডার করেন, তখন সেই অর্ডারটি সরাসরি পণ্য সরবরাহকারী বা নির্মাতার কাছে পাঠানো হয় এবং তারা পণ্যটি গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করেন। এই ব্যবসায়িক মডেলটি শুরু করতে ব্যবসায়ীদের একটি ওয়েবসাইট, সঠিক সরবরাহকারী এবং কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্রাটেজির প্রয়োজন হয়।

ড্রপশিপিংয়ের মূল আকর্ষণ হলো নিম্নলিখিতঃ

  • কম প্রাথমিক বিনিয়োগ
  • স্টক মেইনটেন করার ঝামেলা নেই
  • সারা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করার সুবিধা
  • ব্যবসার ঝুঁকি ও পরিচালন খরচ কম

২. ড্রপশিপিং এর ইতিহাস ও বিকাশ

ইন্টারনেট ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের যুগে ব্যবসার ধরন ও প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রথাগত খুচরা বিক্রয়ের পদ্ধতি থেকে অনলাইন বিক্রয়ের দিকে ঝোঁক বৃদ্ধি পায়। ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে ই-কমার্সের উন্নতির সাথে সাথে ড্রপশিপিং পদ্ধতি উঠে আসে। শুরুতে এই পদ্ধতি মূলত ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কার্যকর উপায় হিসেবে পরিচিত ছিল, যারা সীমিত বাজেটে ব্যবসা শুরু করতে চেয়েছিল।

পরবর্তীতে, আমাজন, ইবে এবং আলিবাবার মতো বড় বড় প্ল্যাটফর্মের আগমনে ড্রপশিপিং পদ্ধতি আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে। সরবরাহকারীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, উন্নত প্রযুক্তি ও উন্নত লগিস্টিক সাপোর্টের কারণে এই মডেলটি দ্রুত বিকাশ লাভ করে। আজকের দিনে ড্রপশিপিং এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল যেখানে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য উদ্যোক্তা তাদের পণ্যের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করছেন।

৩. ড্রপশিপিং এর উপকারিতা

ড্রপশিপিং মডেল ব্যবহারের অসংখ্য সুবিধা রয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য এটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নীচে কিছু প্রধান সুবিধার আলোচনা করা হলো:

ক) কম প্রাথমিক বিনিয়োগ

পরম্পরাগত ব্যবসায়ে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় যেমন গুদাম, স্টক, ইনভেন্টরি, ইত্যাদি। কিন্তু ড্রপশিপিং মডেলে এসব খরচ অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব, কারণ সরাসরি কোনো পণ্য সংগ্রহ বা স্টক রাখার প্রয়োজন হয় না। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা কম বাজেটে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

খ) ঝুঁকি কমানো

যেহেতু পণ্য স্টক না রাখা হয়, তাই অতিরিক্ত ইনভেন্টরি বা অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া, যদি কোনো পণ্য বিক্রি না হয়, তবে এর জন্য আর কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। এই কারণে ব্যবসায়ীরা সহজেই নতুন নতুন পণ্য বা মার্কেট ট্রেন্ড পরীক্ষা করতে পারেন।

গ) সময় ও স্থান স্বাধীনতা

ড্রপশিপিং মডেলটি পরিচালনা করতে হলে আপনার নিজের কোনো অফিস বা গুদামের প্রয়োজন হয় না। আপনি যে কোনো স্থান থেকে, যে কোনো সময় এই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যবসা পরিচালনা করা এখন আরও সহজ।

ঘ) বিস্তৃত পণ্যের পরিসর

অনলাইন মার্কেটে নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ড্রপশিপিং মডেলে আপনি একাধিক ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করতে পারেন এবং সরাসরি সরবরাহকারীর সাথে কাজ করে আপনার পণ্যের পরিসর আরও বিস্তৃত করতে পারেন।

৪. ড্রপশিপিং এর অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ

যদিও ড্রপশিপিংয়ের অনেক সুবিধা রয়েছে, তবুও কিছু অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জও আছে যা ব্যবসায়ীদের মাথায় রাখতে হয়:

ড্রপশিপিং
ড্রপশিপিং এর অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ


ক) কম মুনাফা

ড্রপশিপিং মডেলে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি থাকে, যার ফলে প্রাইস কম্পিটিশন বৃদ্ধি পায় এবং মুনাফার মার্জিন কমে যায়। পণ্য সরবরাহকারীদের সাথে চুক্তি করার সময় আপনাকে এ কথা খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনি যথেষ্ট লাভ অর্জন করতে পারেন।

খ) ইনভেন্টরি ও স্টক নিয়ন্ত্রণের অভাব

কারণ আপনি সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করেন না, তাই সরবরাহকারীর স্টকের ওপর আপনার কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এর ফলে কখনো কখনো অর্ডার ও শিপিং সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

গ) শিপিং সমস্যা ও ডেলিভারি টাইম

বিশ্বব্যাপী সরবরাহকারীদের সাথে কাজ করার ফলে শিপিং সময় ও খরচ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের কারণে পণ্য পৌঁছানোর সময় বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহকের অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে।

ঘ) সরবরাহকারীর উপর নির্ভরশীলতা

আপনার ব্যবসার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার নির্বাচিত সরবরাহকারীর উপর। যদি সরবরাহকারী নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না করে বা পণ্যের গুণগত মান ঠিক না থাকে, তবে তা আপনার ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৫. ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার ধাপ

ড্রপশিপিং ("ড্রপশিপিং- সম্পর্কে আর্টিকেলটি ও পড়ুন") ব্যবসা শুরু করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:

ক) মার্কেট রিসার্চ ও নিস নির্ধারণ

প্রথম ধাপ হিসেবে আপনাকে সঠিক মার্কেট রিসার্চ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • কোন পণ্য বা নিসে ব্যবসা শুরু করবেন তা নির্ধারণ করা
  • বাজারে সেই পণ্যের চাহিদা ও প্রতিযোগিতা বিশ্লেষণ করা
  • গ্রাহকের প্রয়োজন ও প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া

নিশ্চিত করুন যে আপনার নির্বাচিত নিসে পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে এবং আপনি প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন।

খ) উপযুক্ত সরবরাহকারী নির্বাচন

সফল ড্রপশিপিং ব্যবসার অন্যতম মূল বিষয় হলো নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী নির্বাচন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে:

  • বিভিন্ন সরবরাহকারী ও ওয়েবসাইট (যেমন: AliExpress, SaleHoo, Doba) এর মাধ্যমে সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে হবে
  • সরবরাহকারীদের রিভিউ, রেটিং ও ব্যবসায়িক ইতিহাস যাচাই করতে হবে
  • সরবরাহকারীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের শিপিং পলিসি, রিটার্ন পলিসি ইত্যাদি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে হবে

গ) একটি শক্তিশালী ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি

আপনার ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য একটি ইউজার-ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্টোর তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কিছু প্রধান বিষয়:

  • সিম্পল ও মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন
  • সহজ নেভিগেশন ও খোঁজার সুবিধা
  • উচ্চ মানের পণ্য ছবি ও বিস্তারিত বিবরণ
  • সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO) এর উপর জোর

ঘ) ডিজিটাল মার্কেটিং ও সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্রাটেজি

ই-কমার্স ব্যবসার সফলতার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে:

  • SEO: পণ্যের সঠিক কীওয়ার্ড, ব্লগ পোস্ট ও লিঙ্ক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে গুগলে র‍্যাঙ্কিং বৃদ্ধি
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রচারণা
  • পেইড অ্যাডভার্টাইজিং: গুগল অ্যাডওয়ার্ডস ও ফেসবুক অ্যাডসের মাধ্যমে টার্গেটেড মার্কেটিং
  • ইমেইল মার্কেটিং: সাবস্ক্রাইবারদের নিয়মিত ইমেইলের মাধ্যমে পণ্য ও অফার সম্পর্কিত তথ্য প্রদান

৬. সফল ড্রপশিপিং স্ট্রাটেজি ও মার্কেটিং টিপস

সফল ড্রপশিপিং ব্যবসা পরিচালনার জন্য কিছু কার্যকর স্ট্রাটেজি ও টিপস মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়:

ড্রপশিপিং
সফল ড্রপশিপিং স্ট্রাটেজি ও মার্কেটিং টিপস


ক) সঠিক কীওয়ার্ড গবেষণা

আপনার পণ্য ও ব্যবসায়িক নীচে উপযুক্ত কীওয়ার্ড নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কীওয়ার্ড গবেষণা আপনার ওয়েবসাইটের SEO উন্নত করতে সহায়তা করে এবং গুগলের প্রথম পৃষ্ঠায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। কীওয়ার্ড গুলোকে প্রাসঙ্গিক, জনপ্রিয় এবং কম প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।

খ) নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট ও ব্লগিং

নতুন নতুন আর্টিকেল, ব্লগ পোস্ট, টিউটোরিয়াল ও কেস স্টাডি শেয়ার করা আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট গ্রাহকদের সাথে একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং গুগলও এমন সাইটকে গুরুত্ব দেয়।

গ) গ্রাহক সাপোর্ট ও পরবর্তী সেবা

সফল ব্যবসার মূল চাবিকাঠি হলো গ্রাহকের সন্তুষ্টি। একটি কার্যকর গ্রাহক সাপোর্ট সিস্টেম স্থাপন করে, আপনি গ্রাহকের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারবেন। লাইভ চ্যাট, ইমেইল সাপোর্ট এবং FAQ পেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের সব প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা উচিত।

ঘ) প্রতিযোগিতামূলক বিশ্লেষণ

আপনার প্রতিযোগীদের কার্যক্রম ও মার্কেট স্ট্রাটেজি সম্পর্কে জানুন এবং তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। কোন পণ্য বা সেবা গ্রাহকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখুন এবং সেখান থেকে আপনার ব্যবসার উন্নতির পথ খুঁজে বের করুন।

৭. ড্রপশিপিং এর ভবিষ্যৎ ও বর্তমান ট্রেন্ড

ড্রপশিপিং ব্যবসা গত কয়েক বছরে দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে এবং আগামী বছরগুলোতে এর আরো প্রসার আশা করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের উন্নতি এবং পরিবর্তিত গ্রাহক চাহিদার কারণে এই মডেলটি ক্রমাগত নতুন দিক যুক্ত করছে। কিছু প্রধান ট্রেন্ড নিম্নরূপ:

  • স্বয়ংক্রিয়তা ও অটোমেশন: বিভিন্ন সফটওয়্যার ও টুলের মাধ্যমে অর্ডার প্রসেসিং, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট ও শিপিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যা ব্যবসার গতি বাড়াচ্ছে।
  • মোবাইল ফার্স্ট মার্কেটিং: মোবাইল ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মোবাইল অপ্টিমাইজড ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরির গুরুত্ব বেড়েছে।
  • বহুমুখী পেমেন্ট সলিউশন: ডিজিটাল পেমেন্ট ও ওয়ালেট সিস্টেমের প্রসার ব্যবসায়িক লেনদেনকে দ্রুত, নিরাপদ ও সহজ করে তুলেছে।
  • বৈশ্বিকীকরণ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোন প্রান্তের গ্রাহকের সাথে সংযোগ স্থাপন সহজ হচ্ছে, ফলে ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক মার্কেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন।

এই সব ট্রেন্ডগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ড্রপশিপিং শুধু বর্তমানেই নয়, ভবিষ্যতেও ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে রয়ে যাবে ("সোশ্যাল মিডিয়া- সম্পর্কে আর্টিকেলটি ও পড়ুন")। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে নতুন নতুন সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে, যা ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত অভিযোজন ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা দাবি করবে।

৮. প্রযুক্তি ও ড্রপশিপিং: আধুনিক ব্যবসার সমন্বয়

প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে ড্রপশিপিং মডেলেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন টুল ও সফটওয়্যার যেমন অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম, CRM সিস্টেম, অর্ডার ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে পারছেন।

উদাহরণস্বরূপ, কিছু বিশেষ ড্রপশিপিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেগুলো সরাসরি সরবরাহকারী, পেমেন্ট গেটওয়ে এবং শিপিং কোম্পানির সাথে ইন্টিগ্রেটেড। এই সব ব্যবস্থার ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের সময় ও প্রচেষ্টা মূলত মার্কেটিং ও কাস্টমার রিলেশনশিপ বিল্ডিংয়ে নিবেদন করতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।

৯. বাস্তব জীবনের উদাহরণ ও কেস স্টাডি

বহু সফল উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তাদের ড্রপশিপিং মডেলের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। যেমন, কিছু ই-কমার্স সাইট ছোট থেকেই শুরু করে, ক্রমশ বিশ্বব্যাপী গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সাফল্যের মূল কারণ হলো সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত সরবরাহকারী নির্বাচন এবং কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং (আমাদের facebook যুক্ত হতে পারেন )।

একটি সফল কেস স্টাডি হিসেবে ধরা যাক – একটি ছোট ব্যবসায়ী, যিনি মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিয়োগে তার ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করেন। তার মূল মনোযোগ ছিলো সঠিক নিস এবং উচ্চ মানের পণ্য নির্বাচন করা। ধীরে ধীরে, তার ব্যবসা বিশ্বব্যাপী গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যায় এবং আজকের দিনে তিনি এক সফল ই-কমার্স উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই ধরনের উদাহরণ আমাদের শেখায় যে, সঠিক পরিকল্পনা ও মনোযোগ থাকলে যে কোন উদ্যোক্তা ড্রপশিপিংয়ের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করতে পারেন।

১০. উপসংহার

ড্রপশিপিং ব্যবসায়িক মডেলটি ই-কমার্স জগতের এক অন্যতম উদ্ভাবনী ধারণা, যা কম বিনিয়োগে, কম ঝুঁকিতে এবং ব্যাপক সুযোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সফলতার পথে পরিচালিত করে। এই মডেলে সঠিক মার্কেট রিসার্চ, উপযুক্ত সরবরাহকারী নির্বাচন, কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাহক সাপোর্টের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করা সম্ভব (অনলাইন কাজের সাইটে ভিসিট করুন)।

FAQ - সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

নীচে ড্রপশিপিং সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও তাদের উত্তর প্রদান করা হলো, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে:

প্রশ্ন ১: ড্রপশিপিং কি এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

উত্তর: ড্রপশিপিং এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল যেখানে ব্যবসায়ী নিজেই কোনো পণ্য সংগ্রহ বা স্টক রাখেন না। গ্রাহকের অর্ডার পাওয়ার পর সরাসরি সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে তা গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে স্টক মেইনটেনেন্সের ঝামেলা, গুদামের খরচ ও ঝুঁকি কমে যায়।

প্রশ্ন ২: ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করতে কোন কোন ধাপ অনুসরণ করতে হয়?

উত্তর: সফল ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য প্রথমে মার্কেট রিসার্চ করে সঠিক নিস নির্ধারণ করতে হবে, উপযুক্ত সরবরাহকারী নির্বাচন করতে হবে, একটি ইউজার-ফ্রেন্ডলি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে এবং কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্রাটেজি অবলম্বন করতে হবে।

প্রশ্ন ৩: ড্রপশিপিং এর সুবিধা ও অসুবিধা কী কী?

উত্তর: ড্রপশিপিংয়ের সুবিধার মধ্যে রয়েছে কম বিনিয়োগ, ঝুঁকি কমানো, সময় ও স্থান স্বাধীনতা ও বিস্তৃত পণ্যের পরিসর। অন্যদিকে, এর অসুবিধা হিসেবে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়া, কম মুনাফা, শিপিং সমস্যা ও সরবরাহকারীর উপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন ৪: কীভাবে আমি আমার ড্রপশিপিং ব্যবসার সফলতা বৃদ্ধি করতে পারি?

উত্তর: সফলতা অর্জনের জন্য সঠিক কীওয়ার্ড রিসার্চ, নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট, কার্যকর গ্রাহক সাপোর্ট, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্লেষণ ও উন্নত ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্রাটেজির প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

প্রশ্ন ৫: ড্রপশিপিং ব্যবসার ভবিষ্যৎ কেমন দেখাচ্ছে?

উত্তর: প্রযুক্তির অগ্রগতি, মোবাইল ফার্স্ট মার্কেটিং, বৈশ্বিকীকরণ ও অটোমেশন সিস্টেমের উন্নতির ফলে ড্রপশিপিং ব্যবসার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। নতুন নতুন ট্রেন্ড ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই মডেলটি আগামী দিনগুলিতে আরও প্রসার লাভ করবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

তথ্য আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪